Posts

ভালোবাসা জোনাকি

 উৎসর্গ: শঙ্খচিল  ভালোবাসা জোনাকি আমার চোখে যদি তোমাকে খুঁজে না পাও  তবে তুমি অন্ধ, এ চোখের মাঝেই তোমার সবচেয়ে প্রগাঢ় প্রতিবিম্ব। অশ্রু ছলছল হলে সরোবর তুমি অম্লান, তুমি স্থির, তুমি স্থায়ী  শত বছর পর। আমার মনে যদি তোমাকে খুঁজে না পাও  তোমার মন নেশায় আবদ্ধ এ মনে তুমি গগনসম অসীম, এ মনে তুমি অনন্ত উন্মুক্ত  এ মনে তোমার জন্মান্তরের বসবাস  কোটি বছরে শ্রীমূর্তির  কোটি বসন্ত বিলাস। ভালোবাসায় গড়া তোমাকে  খুঁজ যদি নিয়নের বাতিতে, প্রেমভরা যে সিন্ধুতে বেঁচে রও সেঁচ যদি পাম্পের ঘূর্ণনে  জ্বালানি শেষ হবে ছায়াপথে ভালোবাসা ছাড়া তুমি  খুঁজে পাবে? জেনে রেখ- ভালোবাসা জোনাকি  মিটিমিটি জলে তবু পথ দেখি। বিকাল-৪.৪০ শনিবার , ১৫ জুলাই, ২০২৩ ঝালকাঠি

প্রত্যার্পন

 প্রত্যার্পন হ্যাঁ,  তোমাকে বলছি সুচয়নী, এখন আর তোমাকে বারে বারে কল দেই না, বারে বারে খুঁজিনা তুমি ব্যস্ত কিনা তুমি কত সময় ওয়েটিংয়ে আছো। এখন আর খুঁজি না আমার রেগুলার নাম্বারটা ব্ল্যাকলিস্ট কিনা নতুন সিমের মোড়ক খুলেই তোমার নাম্বারটা ডায়াল করা হয়ে উঠে না। একটু কন্ঠ শোনার জন্য তুমি , তোমার বন্ধু  বা পরিবারের অন্য ফোনে আমার কল যায় না যায় না হৃদয় টুকরো মেসেজগুলোও। যায় না কোনো হাহাকার-ক্রন্দন, কিংবা কোন বার্তায় বলা হয় না- অভিনন্দন। যে হৃদয়ে তোমার সুরে ঊর্ধ্বেমুখী হতো হার্টবিট ,  আজ তা অব্যবহৃত অ্যাপসে্র মত ডিসবেইল। এখন আমিও বাণিজ্যিক,  বাস্তবতার মাটিতে আমার শক্ত ভিত। হ্যাঁ, সুচয়নী ঠিকই শুনেছো আজ তোমার কল আসলেও   মোবাইলটা সাইলেন্টে রেখে উল্টিয়ে রাখতে জানি, তাল-বেতালের বকবকানি এখন অসহ্য, এখন আমি খুঁজি টাকার গন্ধ, তাতেই আমার হেবি আনন্দ। মনে পড়ে সুচয়নী, এই টাকার জন্য কত অবহেলা, ক্যারিয়ার-ক্যারিয়ার ডিসগাস্টিং ঘ্যানঘ্যানানি। আমার আবেগ, আমার কান্না, তোমার কাছে কেবলই খেলনা। আজ ক্যারিয়ার আমার আকাশচুম্বী তুমি কোথায়? হা হা হা  ধুলার মলাটে আবে...

অপেক্ষা করুক

 অপেক্ষা করুক ✍️ সত্যান্বেষী দেবাশীষ  আমি চাই কোন একজন কেবল আমার জন্যই অপেক্ষা করুক। সে হোক মেঘনার কুলের বা যমুনার বুকের, বা কীর্তনখোলার সবুজ ছায়ার, হোক না ভিনদেশী বা অন্য আদর্শে বিশ্বাসী,  হোক না ভিন্ন খাদ্যাভ্যাসে বেড়ে ওঠা, কিম্বা কালোকেশী বা ধবল চুলো কিম্বা কোন পর্বতবাসী বা মরুবাসী হোক না ইসলাম বা জাত-ব্রাহ্মণ  হোক না সংকর বা উপজাতি। হোক না কোন বেশ্যারজাত বা সত্যাবতীর গর্ভজাত, হোক না সুললিতা বা বেসুরো। তবুও যেন আমি তাকে ভালোবাসি, সে আমাকে। আমি চাই কেউ একজন কেবল আমার জন্যই অপেক্ষায় থাকুক, তার সকল দুঃখ-গ্লানি নিয়ে, অপেক্ষায় থাকুক সঞ্চিত যৌবন নিয়ে, কৌশর-তারুণ্যের উদ্যাম নিয়ে, স্বপ্ন-শখ,বিরহ-বেদনা নিয়ে, অপেক্ষা করুক তার সমগ্র নেশা-মাতালতা নিয়ে, অনশনে থেকে মলিনবদন কেবল আমায় দেখাবে বলে এত অপেক্ষা, আমার জন্য তার জীবন ছিন্নভিন্ন, চুল এলোমেলো, পোষাক অপরিচ্ছন্ন, আর কেবল আমার জন্যই তার সাজসজ্জা, আমায় সঁপিবে বল তার সকল অর্জন, কেবল আমার অপেক্ষার ছায়া তাকে রোদের আড়ালে রাখে, সকল কলঙ্ক - মাতালতা গোপন থাকে, অসীম-অনন্ত অপেক্ষায় থাকুক আমায় পড়াবে বলে সকল সোহাগ- স্বপ্নে গাথা  জা...

সমান্তরাল

 সমান্তরাল ✍️ সত্যান্বেষী দেবাশীষ  সুখ আর আমি  মুখোমুখি থাকি, আমাদের হয় না মিলন আমরা বিপরীত মেরুর পাখি। স্বপ্ন-বাস্তবের  করুণ বেদনা গর্ভে জন্ম, গর্ভে পালন; তবু বুঝি যায় না ছোঁয়া, হয়না মিলন। ভালোবাসা-আমার দারুন বৈরিতা, আমরা উন্মুক্ত সাগর-সুনীল আকাশ আমাদের হয় চোখাচোখি পরস্পর প্রতিবিম্ব বক্ষে আঁকি। তুমি আর আমি সম্মুখে থাকি তোমার-আমার হয় না মিলন আমরা বিপরীত মেরুর পাখি। বায়ু-স্রোত এক অভিমুখী কি মাতাল মিলনের টান, তবু হয়না মিলন সমান্তরালে চলে কোটিকোটি বছর, কোটি-কোটি মাইল। রচনা:   সকাল:০৭.২৫, শনিবার,  তাং-০৭.০৯.২০২২; স্থান: বরিশাল

মিছিল

         মি ছি ল ✍️সত্যান্বেষী দেবাশীষ  কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতির মিছিল বেড়িয়েছে ! রাজনীতি স্বচ্ছ স্বাধীনতা কাউকে জোর না খাটানোর কথা। শ্রেণী কক্ষে ছাত্রজনতা যাদের রয়েছে নিরপেক্ষতা; ক্ষমতাসীন ছাত্রনেতা, চাপিয়ে দিয়েছে রাজনীতির বোঝা। যে থাকতে চায় স্বচ্ছ ভালো রাজনীতি তাকে করেছে কালো; জোর-জলুমু আর অত্যাচারে - জীবন আজ জর্জরিত॥   জোর করে আনা নিরপেক্ষ ছাত্র জনতা; মিছিলে দিয়েছে পরিপূর্ণতা। বর্তমান মিছিলে - উচ্চারিত সমস্বরে - ভাংচুর কর বিপরীত দলে ॥ মিছিলের দাবি - ওদের মারো,জেলে পুরো; আমাদের নেতাকে সসম্মানে ছাড়ো; বরিতে এসেছে , হাজারো-লক্ষ জনতা অন্তরেতে শ্রদ্ধার ভাটা সাথে এনেছে পুষ্পগাঁথা॥ মিছিল হবে শান্তির ধারা স্লোগান দিব গলাছাড়া, অন্তরেতে আসবে তৃপ্তি উঠবে জ্বলে প্রগতির দিপ্তী। মিছিল হলো দিকদর্শণা আনবে বয়ে মক্তিুক্তির ধারা সকলে মোরা ইচ্ছে করে মিছিলে যোগ দিব দলে দলে ॥ আগৈলঝাড়া , বরিশাল 03.07.2013

মহা-তীর্থ

          মহা-তীর্থ ✍️ সত্যান্বেষী দেবাশীষ  আমায় যে চিনবে , বাইরের রঙ্গে না চিনবে । আমায় যে বঝুবে , লোম স্পর্শেই না বুঝবে । আমায় করিবে যে ঘূণা, মনের সবটুকু রঙ দিয়ে তার জন্য সাজাব সুমধুর বীণা। আমার জন্য কাঁদবে যে একবার, অশ্রুশূণ্য হবে অশ্রু গহ্বর।। আমায় যে খুজঁবে ঘরে-ঘরে , পাড়ি দিব আকাশ-পাতাল-হিমগহ্বর। ভেঙেছে যে মোর স্বপ্ন তার জন্যে অপেক্ষা দিবা-রাত্র। আমার সাথে যে থাকবে রুধির ধারায় মিশে রইবে , আমায় যে বুকে টানবে , হৃদয়ে -হৃদয় মিলবে ।। আমায় যে ভালোবাসবে , আত্মার কথা জানবে , মুক্তির কথা হবে মর্মগাঁথা, মনের মিলনে হবে মহা-তীর্থ।। রচনাকাল-৩১.১২.১৪, ফার্মগের্মগেট, ঢাকা

প্রবন্ধ: বয়ে চলা

        বয়ে চলা ✍️ সত্যান্বেষী দেবাশীষ  জীবনের সবথেকে তাৎপর্য পূর্ণ হচ্ছে বয়ে চলা। ক্লান্তিহীন বয়ে চলা। সেটা নদীও চলে না। সেও মাঝে মাঝে এঁকেবেঁকে ক্লান্তি প্রকাশ করে। জীবনেও থাকবে ক্লান্তি, গদ্যের মত বিরাম। ক্রান্তি প্রকাশ করে আমাদের শ্যামল পৃথিবী। কোথাও সমতলে, কোথায় সমুদ্রে, কোথায় পর্বত শৃঙ্গে , কোথাও মরুভূমি বা শ্যামল বনানীতে। অনন্ত নয় আমাদের সৌরমণ্ডল। তারপর শুরু হয় গ্যালাক্সি তারও শেষ আছে। অসীম হয় একমাত্র অনুভূতি। হতে পারে আবেগ আকাঙ্ক্ষা ভালোবাসা ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলোর মধ্যে যদি ইচ্ছা নামক বিষয়টাকে অনর্গল যোগান দিতে পারেন তবেই অনুভূতিগুলো হবে অসীম, বাকি সব সসীম। কে কাকে কতটা ভালোবাসে তা দ্বিতীয় কেউ জানে না। হয়তো কিছুটা উপলব্ধি করে । জীবন আপনার কেটেই যাবে তা হতে পারে পৃথিবীর সবার থেকে স্বাচ্ছন্দের বা সব থেকে রুক্ষতার। হতে পারে সব থেকে সম্মানের কিংবা অপমানের। বয়ে চলার মানসিকতা যদি থাকে তবে চালিয়ে নিতে পারবেনই। বয়ে চলার সবথেকে উত্তম উপায় হচ্ছে অপরের মনোভাব দ্বারা নিজেকে মেজরমেন্ট বা যাচাই না করা। যাচাই করছেন তো নিজের উপর আপনি বিরক্ত হতে বাধ্য। জ...